কলকাতা পুরসভায় ১৪৪ থেকে ২০৯ এবং হাওড়া পুরনিগমে ৫০ থেকে ৬৮টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব, এক দিনের বিশেষ অধিবেশনে আসছে সংশোধনী বিল
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.08.2026 at 13:51 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ১২ অগস্ট এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১২ অগস্টের বিশেষ অধিবেশনে হাওড়া পুরনিগম (সংশোধনী) বিল এবং কলকাতা পুরসভা (সংশোধনী) বিল পেশ করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হবে। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার প্রস্তাব রয়েছে।

সরকারের বক্তব্য, পুর এলাকার সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই দুই সংশোধনী বিল দ্রুত বিধানসভায় পাশ করানোর উদ্দেশ্যেই এক দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
প্রসূতি মায়েদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের জন্য রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করার সিদ্ধান্তেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে।
শিল্পের জমি হস্তান্তরে বড় উদ্যোগ
শিল্পায়ন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, শিল্পের জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলছে। আগামী ১৯ অগস্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আগামী এক মাসের মধ্যে বড় সংখ্যায় শিল্পের জমি হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
এই জমি হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে পৃথক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে বড় বার্তা
নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA-এর অধীনে আবেদনকারীদের সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ লক্ষ ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে CAA-এর অধীনে ২ লক্ষ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারী ইতিমধ্যেই শংসাপত্র পেয়েছেন এবং প্রায় ২ লক্ষ ৭ হাজার আবেদন এখনও বিবেচনাধীন।
এই দুই শ্রেণির আবেদনকারীরা রেশন, আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা, বিকশিত ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে থাকবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে যাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি জানিয়ে কোনও আবেদনই করেননি, তাঁদের সরকারি সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আপনি যদি নিজেকে ভারতীয় হিসেবে দাবি না করেন, তা হলে সরকারের করের টাকা আপনাকে কী করে দেওয়া হবে?”
‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম বদল নিয়ে জল্পনায় জল
রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম বদলানোর বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সরকারও এই বিষয়ে আগ্রহী নয় বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে রাজ্যের ইতিহাস এবং দেশভাগের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে নাম পরিবর্তন করলে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে আইন দপ্তরের নজর
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক নির্দেশ নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি আইন দপ্তর খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেও বার্তা দেন তিনি।

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
- ১২ অগস্ট: এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন
- হাওড়া: ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব
- কলকাতা: ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব
- ‘বাংলার বাড়ি’-র নতুন নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’
- প্রসূতি মায়েদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত
- শিল্পের জমি হস্তান্তরে গতি আনার ঘোষণা
- CAA ও ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা চালু রাখার বার্তা
- ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম পরিবর্তনে সরকারের আগ্রহ নেই বলে জানানো হয়েছে

