পাকিস্তানে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা, গিরিখাতে পড়ে মৃত্যু অন্তত ৪০ যাত্রীর

কোয়েটা থেকে পেশোয়ার যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে বাস। অতিরিক্ত যাত্রী ও অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিক অনুমান।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 03.07.2026 at 4:20 pm

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ

ছবি – GOOGLE

পাকিস্তানে ফের বড়সড় সড়ক দুর্ঘটনা। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় গভীর গিরিখাতে পড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন। উদ্ধারকাজ এখনও জোরকদমে চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী বাসটি পাহাড়ি রাস্তায় দ্রুত গতিতে চলছিল। একটি বিপজ্জনক বাঁক নেওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি কয়েকশো ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।

বাসে ছিল অতিরিক্ত যাত্রী

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাসটির নির্ধারিত আসনসংখ্যার তুলনায় বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। প্রথমে বাসটিতে ৩৬ জন যাত্রী ছিলেন। পরে অন্য একটি বিকল বাসের ১২ জন যাত্রীকেও একই বাসে তোলা হয়। ফলে মোট যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত যাত্রী ও দ্রুত গতির কারণে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় বাসটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় খাইবার পাখতুনখোয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দলও।

গুরুতর আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

এক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই পাকিস্তানে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। লাহোরের একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে পড়ায় অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয় এবং আহত হয় আরও কয়েকজন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটল দেশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করার প্রবণতা পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠছে।