অযোধ্যার রামমন্দিরে দান ও অলঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। SIT তদন্তের পরপরই ট্রাস্টের মহাসচিব চম্পত রাই ও সদস্য অনিল মিশ্রের পদত্যাগ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জল্পনা।
বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ
অযোধ্যা রামমন্দিরে দান কেলেঙ্কারি, পদত্যাগ চম্পত রাইয়ের
অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরে দান হিসেবে জমা হওয়া অর্থ ও অলঙ্কার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পর তদন্তে গতি এসেছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের মহাসচিব চম্পত রাই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি জানান, নৈতিক দায় স্বীকার করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্র-ও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
দান কেলেঙ্কারিতে চম্পত রাইকে ঘিরে প্রশ্ন
রামমন্দিরে দান আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা যায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সরব হয় এই ঘটনায়।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অযোধ্যা সফরে গেলে রাজনৈতিক মহলে দাবি ওঠে, ওই সফরের সময় চম্পত রাইকে তাঁর কাছাকাছি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
SIT তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ
সূত্রের দাবি, ২৩ জুন SIT তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র দফতরে জমা দেয়। এরপরই পুলিশ অভিযানে নামে এবং এই মামলায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা দান সংগ্রহ, হিসাবরক্ষণ এবং মূল্যবান অলঙ্কারের নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।
কে এই চম্পত রাই?
১৯৪৬ সালের ১৮ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের নাগিনা এলাকায় জন্ম চম্পত রাইয়ের। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি শিক্ষকতা করতেন। পরে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর পূর্ণকালীন প্রচারক হিসেবে যোগ দেন।
জরুরি অবস্থার সময় RSS-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল এবং প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন। মুক্তির পর তিনি পুরোপুরি সংগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
রামমন্দির আন্দোলনের অন্যতম মুখ
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন চম্পত রাই। ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ভাঙার সময়ও তিনি আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালে গঠিত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের মহাসচিব হন।
রামমন্দির নির্মাণ, তহবিল পরিচালনা এবং দানের হিসাবরক্ষণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অযোধ্যা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক নথি ও আইনি বিষয়ের গভীর জ্ঞানের কারণে তাঁকে অনেকেই ‘রামললার পাটওয়ারি’ এবং ‘অযোধ্যার এনসাইক্লোপিডিয়া’ বলেও অভিহিত করতেন।
এখন নজর তদন্তের দিকে
চম্পত রাইয়ের পদত্যাগের পর রামমন্দির ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ পরিচালনা, দান কেলেঙ্কারির প্রকৃত চিত্র এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

