ভাজা ছোলা, চিনাবাদাম, কাজু, কাঠবাদাম আর গুড়ের দুর্দান্ত মিশেল—বিকেলের টিফিন থেকে পুজোর ভোগ, সহজেই বানিয়ে ফেলুন এই স্বাস্থ্যকর লাড্ডু
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 21.09.2026 at 18:31 pm
বঙ্গবার্তার রান্নাঘর, সুমি চ্যাটার্জী:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু বাজারের অতিরিক্ত চিনি দেওয়া মিষ্টি এড়িয়ে চলতে চাইছেন? তাহলে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন চিনি ছাড়া ড্রাই ফ্রুট লাড্ডু। ভাজা ছোলা, চিনাবাদাম, কাজু, কাঠবাদাম ও কিশমিশের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি এই লাড্ডু যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে আখের গুড়।
বিশেষ করে বিকেলের হালকা খাবার, বাচ্চাদের টিফিন কিংবা নিরামিষ দিনের মিষ্টিমুখের জন্য এই লাড্ডু হতে পারে সহজ একটি ঘরোয়া বিকল্প। চাইলে পুজো বা ব্রতের সময়ও এটি পরিবেশন করা যায়।
যা যা লাগবে
- ভাজা ছোলা বা ছোলা ডালিয়া — ১ কাপ
- ভাজা ও খোসা ছাড়ানো চিনাবাদাম — ১ কাপ
- গ্রেট করা আখের গুড় — ১ কাপ
- ঘি — ২ টেবিল চামচ
- কুচানো কাজু — ২ টেবিল চামচ
- কুচানো কাঠবাদাম — ২ টেবিল চামচ
- কিশমিশ — ১ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়ো — ½ চা-চামচ
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে ছোলা ও চিনাবাদাম তৈরি করুন।
ভাজা ছোলা ও চিনাবাদাম মিক্সিতে দিয়ে দরদরা করে গুঁড়ো করে নিন। একেবারে মিহি পাউডার করার প্রয়োজন নেই। সামান্য দানাদার থাকলে লাড্ডুর স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো হবে।
এবার গুড় গলিয়ে নিন।
কড়াইতে সামান্য ঘি দিয়ে কম আঁচে গ্রেট করা গুড় দিন। ধীরে ধীরে গুড় গলিয়ে নিন। গুড় নরম ও চিটচিটে হলেই আঁচ বন্ধ করুন। অতিরিক্ত পাক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মিশ্রণ তৈরি করুন।
গলানো গুড়ের মধ্যে ছোলা-চিনাবাদামের গুঁড়ো, কাজু, কাঠবাদাম, কিশমিশ ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
এরপর লাড্ডু বাঁধুন।
মিশ্রণটি সামান্য গরম থাকতেই হাতে একটু ঘি মেখে ছোট ছোট লাড্ডু তৈরি করুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে মিশ্রণ শক্ত হয়ে যেতে পারে, তাই এই ধাপটি দ্রুত করা ভালো।

কয়েকটি সহজ টিপস
গুড় সবসময় কম আঁচে গলাবেন। বেশি আঁচে গুড় পুড়ে গেলে স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে।
মিক্সিতে ছোলা ও চিনাবাদাম একটানা বেশি সময় ঘোরাবেন না। থেমে থেমে গুঁড়ো করলে ভালো থাকবে। বেশি মিহি করলে বাদাম থেকে তেল বেরিয়ে মিশ্রণটি অতিরিক্ত আঠালো হয়ে যেতে পারে।
লাড্ডু বাঁধতে সমস্যা হলে মিশ্রণে ১ চামচ গরম ঘি মিশিয়ে নিতে পারেন।
আরও পুষ্টিকর করতে চাইলে এতে ভাজা তিসি বা সাদা তিল যোগ করা যায়।
কতদিন সংরক্ষণ করবেন?
লাড্ডুগুলি সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে পরিষ্কার এয়ারটাইট কৌটোতে রাখুন। রেসিপিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে ১৫–২০ দিন পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সংরক্ষণের সময় আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও উপকরণের সতেজতার ওপর নির্ভর করবে—তাই গন্ধ, স্বাদ বা চেহারায় পরিবর্তন দেখা দিলে খাবেন না।

কীভাবে পরিবেশন করবেন?
বিকেলের চায়ের সঙ্গে, টিফিনে অথবা খাবারের পর মিষ্টিমুখ হিসেবে পরিবেশন করতে পারেন। পরিবেশনের সময় ওপর থেকে সামান্য কাঠবাদাম কুচি, কিশমিশ কিংবা এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলে লাড্ডু দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে।
নোট: গুড় ব্যবহার করা হলেও এতে চিনি বা কার্বোহাইড্রেট একেবারেই নেই—এমন নয়। তাই ডায়াবেটিস বা নির্দিষ্ট খাদ্যনিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরিমাণ অনুযায়ী খাওয়াই ভালো।
উপরের পদ্ধতি ছাড়াও নিজেরাও নিজেদের মতো করে এটি বানাতে পারেন

