স্থগিতাদেশে বড় শিথিলতা! শর্ত মেনে ফের শুরু হবে কলকাতার নির্মাণকাজ, জি+৪ আবাসনে নেই নতুন অনুমতির বাধ্যবাধকতা

কলকাতা পুরসভার নতুন নির্দেশিকায় স্বস্তি ছোট আবাসন নির্মাতাদের। বহুতল প্রকল্পে লাগবে উচ্চ পর্যায়ের কমিটির NOC, তবে একাধিক জরুরি নির্মাণকাজেও মিলল ছাড়।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 02.07.2026 at 6:25 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,জ্যোতির্ময় দত্ত:

ছবি- এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে থমকে থাকা কলকাতার নির্মাণ শিল্পে ফের আশার আলো। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কলকাতা পুরসভা নির্মাণকাজের উপর জারি থাকা স্থগিতাদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছাড় ঘোষণা করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই শহরের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প আবার চালু করা যাবে।

পুরসভার জানানো হয়েছে, এক থেকে ষোলো নম্বর বরো এলাকার মধ্যে বহুতল বা বড় ব্যক্তিগত নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শুরুর আগে রাজ্য সরকারের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) বাধ্যতামূলক হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা বা সংস্থাকে ই-মেল অথবা হাতে সেই অনুমতিপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কাজে বিশেষ ছাড়

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, যেসব নির্মাণস্থলে ইতিমধ্যেই বেসমেন্ট খোঁড়া বা ভিত তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • শিট পাইলিং
  • রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ
  • ডি-ওয়াটারিং (জল নিষ্কাশন)
  • ফাউন্ডেশন সুরক্ষা সংক্রান্ত কাজ

এছাড়াও পুরসভার অনুমোদনপ্রাপ্ত পুরনো ও বিপজ্জনক বাড়ির মেরামত এবং পুনর্গঠনের কাজও চালানো যাবে।

বর্ষায় দুর্ঘটনা রুখতে বিশেষ নির্দেশ

বর্ষাকালে জল জমে মশার বংশবিস্তার রুখতে নির্মাণস্থলে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সেফটি নেট লাগানো বা খোলা, ভারা তৈরি বা অপসারণ এবং চলমান ক্রেন স্থাপন বা অপসারণের কাজ সম্পূর্ণ করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

জি+৪ আবাসনের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হল ছোট আবাসন প্রকল্প নিয়ে। পুরসভার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৈধ অনুমোদিত প্ল্যান থাকা গ্রাউন্ড প্লাস ফোর (G+4) পর্যন্ত আবাসিক ভবনের নির্মাণ বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নতুন করে উচ্চ পর্যায়ের কমিটির অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

এর ফলে শহরের অসংখ্য ছোট আবাসন প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সরকারি প্রকল্পেও মিলল ছাড়

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজগুলিকেও এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।

পুরসভার প্রশাসক ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনার জানিয়েছেন, যাঁরা ছাড়ের আওতায় পড়বেন, তাঁরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন শহরের থমকে থাকা নির্মাণ শিল্প নতুন গতি পাবে, তেমনই কঠোর নিরাপত্তা বিধি বজায় থাকায় বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেকটাই কমবে।