‘সম্পূর্ণ জনরোষ, কেউ পাথর ছোড়েনি’, মমতার উপর হামলার অভিযোগ উড়িয়ে শুভেন্দু

‘জেড প্লাস নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও পুলিশকে জানানো হয়নি’, হালিশহরের বিক্ষোভ নিয়ে মমতার অভিযোগ নস্যাৎ মুখ্যমন্ত্রীর; পাল্টা প্রাক্তন সরকারের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গও তুললেন

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 10.08.2026 at 13:55 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত

হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রবিবার হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ও কাদা ছোড়া হয়েছে এবং তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সোমবার সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

‘সম্পূর্ণ জনরোষ, কেউ পাথর ছোড়েনি’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মমতার উপর কোনও হামলা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, হালিশহরে যা ঘটেছে তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কমপ্লিটলি পাবলিকের জনরোষ হয়েছে… কেউ পাথর ছোড়েনি।” বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না।

মমতার ‘পাথর ছোড়া’ সংক্রান্ত অভিযোগেরও তীব্র বিরোধিতা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলের ছবিতেও পুলিশ পাথর ছোড়ার কোনও প্রমাণ দেখতে পায়নি।

‘জেড প্লাস নিরাপত্তা, তবু পুলিশকে জানানো হয়নি’

হালিশহরের ঘটনা নিয়ে মমতার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, জেড প্লাস নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও হালিশহরে যাওয়ার আগে পুলিশকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “আপনি ইউ আর হোল্ডিং জেড প্লাস ক্যাটাগরি, আপনি যখন যেখানে যাবেন প্রায়র পুলিশকে বলবেন।”

আগাম খবর পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারত বলেও দাবি করেন তিনি।

‘পুলিশকে জানিয়ে এলে সব ব্যবস্থা করতাম’

ঘটনার জন্য পুলিশের প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করার আগে সফরের বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর কথায়, “আপনি পুলিশকে জানিয়ে আসলে আমি সব ব্যবস্থা নিতাম। রেসপন্সিবিলিটি গোস টু পুলিশ।”

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মমতা পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে দলের দুই নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেনকে খবর দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে মমতাকে পাল্টা আক্রমণ

হালিশহরের ঘটনা নিয়ে মমতার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যে গত পনেরো বছরের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু।

তাঁর দাবি, ওই সময়ে ৩১৫ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জের রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন তিনি।

শুভেন্দুর অভিযোগ, মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের পরিবারের পাশে তৎকালীন সরকার দাঁড়ায়নি। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি মমতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও তোলেন।

‘রাজনৈতিক বিরোধী হলেও পরিবারের পাশে সরকার’

হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে তাঁর সরকার দাঁড়িয়েছে—এই বিষয়টিও ফের স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অবস্থান না দেখে নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য, চাকরি এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফলে হালিশহরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হামলা’র অভিযোগ, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনরোষ’-এর পাল্টা দাবি—দুই পক্ষের বক্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।