চার নতুন বিমানবন্দর তৈরিতে কেন্দ্র-রাজ্যের মৌ, কলকাতা-লন্ডন সরাসরি উড়ানের উদ্যোগ; কল্যাণীতে ২০০০ একর জমিতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের প্রস্তুতি
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 05.10.2026 at 15:47 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি – নিজস্ব
আগামী দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে বড়সড় উদ্যোগ নিল কেন্দ্র ও রাজ্য। সোমবার নবান্নে ‘উড়ান’ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক, এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে চারটি নতুন বিমানবন্দর নিয়ে কাজ শুরু হলেও ভবিষ্যতে সেই সংখ্যা আটে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে আর নাইডু।
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে হাসিমারা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়া। হাসিমারায় ইতিমধ্যেই ২৭০০ মিটার রানওয়ে রয়েছে, বালুরঘাটের এয়ারস্ট্রিপ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার কাছাকাছি দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। ‘উড়ান’ প্রকল্পে আগামী দশ বছরে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

কলকাতা-লন্ডন সরাসরি উড়ানের উদ্যোগ
বিমানবন্দর বৃদ্ধির পাশাপাশি কলকাতা থেকে লন্ডন ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফেরানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। অন্ডাল থেকে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহর এবং অযোধ্যা, তিরুপতি, খাটুশ্যাম ও অমৃতসরের মতো ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
কল্যাণীতে ২০০০ একরের গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর
কল্যাণীতে প্রায় ২০০০ একর জমিতে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মালদহ ও কোচবিহার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। হাসিমারা ও কলাইকুন্ডার মতো সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন বিমানঘাঁটিকে যাত্রী পরিষেবার আওতায় আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বেহালায় পাইলট প্রশিক্ষণকেন্দ্র
বেহালা এয়ারস্ট্রিপকে আধুনিক ফ্লাইট ট্রেনিং অর্গানাইজেশন (FTO) হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশে নতুন বিমানের সংখ্যা বাড়ায় আগামী দিনে বিপুল সংখ্যক পাইলটের প্রয়োজন হবে। সেই চাহিদা পূরণে বাংলায় প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের দাবি, ২০১৪ সালে দেশে বিমানবন্দরের সংখ্যা ছিল ৭৪। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬৬ হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও বিমান পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারের মতে, নতুন বিমানবন্দর তৈরি হলে শুধু যাত্রী পরিষেবা নয়, পর্যটন, বাণিজ্য, শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

