রাত পোহানোর আগেই থেমে গেল জীবন, ৪৫ মিনিটের CPR-ও বাঁচাতে পারল না নানাকে

গোয়ার বাড়িতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানার পাটেকর, বয়স হয়েছিল ৭৫; হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ চলল প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 08.10.2026 at 14:47 pm

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং সোশ্যাল মিডিয়া

ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নানার পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ভোরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে CPR ও কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শেখর সালকার জানিয়েছেন, নানাকে হাসপাতালে আনার সময় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও সাড়া মেলেনি। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পোস্টমর্টেমের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

আচমকাই অসুস্থতা, তারপর দ্রুত অবনতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতে নানার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তিনি গোয়ার ডোনা পাউলা এলাকার বাড়িতে ছিলেন। পরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছয় এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

নানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই চলচ্চিত্র জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। সহকর্মী, অনুরাগী এবং বিভিন্ন মহলের মানুষ তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করছেন।

অভিনয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের উজ্জ্বল অধ্যায়

নানার পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। মঞ্চ দিয়ে অভিনয়জীবনের শুরু। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘নটসম্রাট’, ‘ওয়েলকাম’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।

শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, পরিচালক ও সমাজকর্মী হিসেবেও নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন নানার পাটেকর। তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে একাধিক জাতীয় পুরস্কার রয়েছে। ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।

পর্দার শক্তিশালী মানুষটির শেষ অধ্যায়

তাঁর অভিনয়ের স্বতন্ত্র ভঙ্গি, সংলাপ বলার ক্ষমতা এবং চরিত্রের গভীরে পৌঁছে যাওয়ার দক্ষতা তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় অভিনেতায় পরিণত করেছিল। একইসঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। কৃষক ও জলসংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে।

৭৫ বছর বয়সে আকস্মিক এই প্রয়াণে শেষ হল এক দীর্ঘ অভিনয়যাত্রা। নানার পাটেকরের কণ্ঠ, অভিনয়ের তীব্রতা এবং অসংখ্য চরিত্র তাঁর দর্শকদের স্মৃতিতে থেকে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *