৩২৫ জনকে সরকারি স্বীকৃতি, জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তির আবহে রাজ্যের বড় উদ্যোগ
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 08.08.2026 at 15:05 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারাবন্দি হওয়া ব্যক্তিদের এবার সরকারি স্বীকৃতি দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। জরুরি অবস্থার সময় জেলবন্দি হওয়া ৩২৫ জনকে ‘লোকতন্ত্র সেনানী’ সম্মানে ভূষিত করা হবে। আগামী রবিবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই ধরনের সম্মান প্রদান এবারই প্রথম বলে নবান্ন সূত্রে খবর। জরুরি অবস্থার সময় গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন এবং সেই কারণে কারাবরণ করেছিলেন, তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকেই সম্মানপ্রাপক
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘লোকতন্ত্র সেনানী’ সম্মানের তালিকায় রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই কমবেশি ব্যক্তির নাম রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক আগে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশ নেওয়া এই ব্যক্তিদের অবদানকে স্মরণ করতেই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। সম্মানপ্রাপকদের নবান্নে উপস্থিতি, তাঁদের যাতায়াত, অনুষ্ঠানস্থলে বসার ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন নবান্নের শীর্ষ কর্তারা।
জেলা প্রশাসনকে প্রস্তুতির নির্দেশ
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রত্যেক জেলার সম্মানপ্রাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তাঁদের যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। নবান্ন সভাঘরে যাতে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর সমন্বয় করে কাজ করছে।
জরুরি অবস্থার ৫০ বছর, তাৎপর্যপূর্ণ সরকারি স্বীকৃতি
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। সেই সময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী-সহ বহু মানুষকে গ্রেফতার ও কারাবন্দি করা হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু ব্যক্তি দীর্ঘ সময় জেলে ছিলেন।
জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তির আবহে তাঁদের সরকারি সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নতুন করে সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্নে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রী-আমলারাও
রবিবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সম্মানপ্রাপকদের উপস্থিত থাকার কথা। অনুষ্ঠানে জরুরি অবস্থার সময়কার আন্দোলন ও গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করা হবে।
৩২৫ জন ‘লোকতন্ত্র সেনানীকে’ সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকারের এই প্রথম উদ্যোগ আগামী দিনে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

