বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। জনসমাগমে ভরা সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, বাংলা শুধু একটি রাজ্য নয়, ভারতীয় সভ্যতা ও জাতীয় চেতনার অন্যতম ভিত্তিভূমি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলার ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে বাংলার অবদান অসামান্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ইতিহাসের অনেক অধ্যায়ই নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি।

তিনি দাবি করেন, বাংলার প্রকৃত ঐতিহ্য, বীরত্ব এবং আত্মত্যাগের কাহিনি সামনে এনে তরুণ সমাজকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার সময় এসেছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের নতুন প্রশাসন কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়— এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামী দিনের বাংলা। শুধু বড় শহর নয়, গ্রামাঞ্চল, কৃষক, শ্রমিক, যুবক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষের প্রতিভা, কর্মদক্ষতা এবং সৃজনশীলতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সঠিক সুযোগ ও পরিকাঠামো পেলে বাংলা আবারও দেশের অন্যতম অগ্রগামী রাজ্যে পরিণত হতে পারে। শিল্প, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ ও উদ্যোগের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় Syama Prasad Mukherjee-র ভাবনা ও আদর্শেরও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আত্মনির্ভর, আত্মবিশ্বাসী এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলা গড়ে তোলাই হবে আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সভাস্থলে উপস্থিত মানুষের উচ্ছ্বাস এবং করতালির মধ্যেই তিনি বার্তা দেন, উন্নয়নের পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলা আবারও দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে নিজের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করবে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এই মঞ্চ থেকেই তিনি ‘অগ্রসর বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষকে সেই যাত্রার অংশীদার হওয়ার ডাক দেন।

