মমতার গড়ে গেরুয়া ধাক্কা! পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে প্রথমবার বিজেপির বোর্ড

রাজ্যের প্রথম জেলা পরিষদ বিজেপির দখলে। বামদেব গুছাইত সভাধিপতি ও বাঁসুরি পণ্ডিত সহকারী সভাধিপতি নির্বাচিত। শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বাসের মাঝেই ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’ বলে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বঙ্গবার্তা নিউজ, পূর্ব মেদিনীপুর, অভিজিৎ বসু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করল বিজেপি। আর ঘটনাচক্রে সেই জেলা আবার মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব মেদিনীপুর।

জেলা পরিষদের নতুন বোর্ড গঠনের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ এখন থেকে বিজেপি পরিচালিত হবে। সর্বসম্মতিক্রমে বামদেব গুছাইতকে সভাধিপতি এবং বাঁসুরি পণ্ডিতকে সহকারী সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বার্তায় নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন, জনসেবা এবং সুশাসনের মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের এই পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বোর্ড বদলের ঘটনা নয়; বরং এটি রাজ্যের গ্রামীণ রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত স্তরে দলবদল ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের যে প্রবণতা গত কয়েক মাসে দেখা গিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে এই ঘটনাকে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

বিজেপি শিবিরের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন এবং তৃণমূলের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে। তাঁদের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের দখল সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

তবে এই রাজনৈতিক পালাবদলকে মোটেই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় জনপ্রতিনিধিদের উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ভয় দেখিয়ে ক্ষমতার সমীকরণ বদলানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এভাবে দলবদলে বাধ্য করা হলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।