‘বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়’, বাজেটের পর নতুন রাজনৈতিক বার্তা তৃণমূলের

বঙ্গবার্তা নিউজ, পূর্ব মেদিনীপুর, আভিজিত বসুঃ

ক্ষমতার পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বদলাতে শুরু করেছে বিরোধিতার ভাষাও। দীর্ঘদিন শাসকদলের ভূমিকায় থাকার পর এবার বিরোধী আসনে বসে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়ে দিল, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিরোধিতা করা নয়, বরং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়া।

নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর দলের তরফে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, সরকারকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাই শুরু থেকেই সর্বাত্মক বিরোধিতার পথে না হেঁটে বাজেটের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করবে দল। তাঁর কথায়, “আজ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে পরবর্তী অবস্থান ঠিক করা হবে।”

তবে সমর্থনের পাশাপাশি একাধিক প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষের দাবি, এই বাজেটে ব্যয়ের বড় বড় ঘোষণা থাকলেও সেই অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, তার পরিষ্কার রূপরেখা নেই। তাঁর মতে, বাজেট ভাষণে কেন্দ্রের প্রকল্প ও দিল্লির আর্থিক সহযোগিতার উল্লেখ এতটাই বেশি যে একে কার্যত ‘দিল্লি নির্ভর বাজেট’ বলেই মনে হচ্ছে।

তৃণমূলের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় কেন্দ্রের সঙ্গে আর্থিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য নিজস্ব সম্পদকে ভিত্তি করে বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প চালু করেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান বাজেটের সাফল্য অনেকটাই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের উপর নির্ভরশীল বলে দাবি বিরোধী শিবিরের।

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, বাজেটে যেসব নতুন প্রকল্প বা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, তার অনেকগুলির ভিত্তিপ্রস্তর বা পরিকল্পনা পূর্ববর্তী সরকারের আমলেই তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি কিছু সামাজিক প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিতও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে আপাতত পর্যবেক্ষণের পথেই হাঁটতে চায় তৃণমূল। দলের বক্তব্য, সরকার যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে তা রাজ্যের মানুষের পক্ষেই ইতিবাচক হবে। কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের ফারাক তৈরি হলে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল আন্দোলন ও প্রতিবাদের পথেও নামবে।