দুই বছরেই ইতি! লেবার নেতৃত্ব ছাড়লেন কিয়ের স্টারমার, ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম?

দলীয় বিদ্রোহ, কমতে থাকা জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা স্টারমারের। নতুন নেতা নির্বাচনের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম।

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্ক

ক্ষমতায় আসার মাত্র দু’বছরের মধ্যেই নেতৃত্ব ছাড়তে বাধ্য হলেন কিয়ের স্টারমার। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন তিনি। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্টারমার।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ঋষি সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল লেবার পার্টি। সেই জয়ের স্থপতি ছিলেন স্টারমার। কিন্তু সরকার গঠনের পর অর্থনীতি, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠতে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে।

দলের অন্দরেও বাড়তে থাকে অসন্তোষ। বিশেষ করে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিতর্কিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। একইসঙ্গে জনমত সমীক্ষায় দেখা যায়, লেবারের একাংশ সমর্থক গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে-র উত্থানও স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনে দলেরই জনপ্রিয় নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উল্লেখযোগ্য জয় পান। এরপর থেকেই লেবারের অন্দরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে থাকে। অনেক সাংসদ ও কর্মী প্রকাশ্যে বার্নহ্যামের পক্ষে মত দিতে শুরু করেন।

অবশেষে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে স্টারমার বলেন, “আমার দল মনে করছে আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন মুখ প্রয়োজন। আমি সেই মতামতকে সম্মান জানাই এবং দেশের স্বার্থে লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এখন ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—স্টারমারের উত্তরসূরি কে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটির উপর।

স্টারমারের পদত্যাগের ফলে গত এক দশকে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পথে এগোল ব্রিটেন। ফলে নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে লেবার পার্টি ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের।