বন্ধ চা-বাগান পুনরুজ্জীবন, তাঁত ও বস্ত্র শিল্পে নতুন সম্ভাবনা— মিলন মেলার শিল্প সম্মেলনে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 06.08.2026 at 13:35 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
বাংলার শিল্পোন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে। রাজ্যের চা শিল্প এবং বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্যে চলতি অগস্ট মাসেই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি দিল্লি সফরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠকে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির পাশাপাশি চা ও বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্মলা সীতারামন ব্যক্তিগতভাবে বাংলার এই দুই শিল্পের উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বন্ধ চা-বাগান খুলতে বিশেষ উদ্যোগ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে ২৫টি চা-বাগান বন্ধ রয়েছে। এগুলি দ্রুত চালু করতে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বন্ধ চা-বাগানগুলিকে পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার চা শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বাংলার বস্ত্র শিল্পকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার পরিকল্পনা
চা শিল্পের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্র শিল্প নিয়েও আশাবাদী কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শান্তিপুর, ফুলিয়া, পূর্বস্থলীসহ রাজ্যের বিভিন্ন তাঁত শিল্পাঞ্চলের উৎকৃষ্ট মানের কাপড় ও হস্তশিল্পের কথা তিনি অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নির্মলা সীতারামন বাংলার টেক্সটাইল শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী এবং এই খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৪ থেকে ২৮ অগস্টের মধ্যে নির্মলা সীতারামনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে তিনি রাজ্যের বস্ত্র শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ৫ থেকে ১০ জন শীর্ষ বস্ত্র উদ্যোক্তার সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বিশেষ বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তিনি এই সুযোগকে “গোল্ডেন অপরচুনিটি” বলে উল্লেখ করেন এবং শিল্পমহলকে এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান।

শিল্পমহলে বাড়ছে আশাবাদ
চা-বাগান পুনরুজ্জীবন, তাঁত শিল্পের প্রসার এবং কেন্দ্রের প্রত্যক্ষ আগ্রহ— সব মিলিয়ে রাজ্যের শিল্পমহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ঘোষিত পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলার চা ও বস্ত্র শিল্প নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি পেতে পারে।

