কর্মীসভায় বিক্ষোভ, ডিম-কাদা নিক্ষেপ ও নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগের পর কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার অনুমতি পেলেন মহুয়া মৈত্র। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তুললেন একাধিক প্রশ্ন।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 03.07.2026 at 2:00 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, জ্যোতির্ময় দত্ত:
ছবি- নিজস্ব ও AI
নদিয়ার কালিগঞ্জে দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র নিজের নিরাপত্তা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবীরা মামলা দায়েরের অনুমতি চাইলে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে।
মহুয়ার অভিযোগ, কালিগঞ্জে তাঁর উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে পুলিশ প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখায়নি। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে আদালতের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ জুলাই, নদিয়ার কালিগঞ্জে একটি দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সভাস্থলের বাইরে কালো পতাকা হাতে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, দলীয় কার্যালয়ের বাইরে থেকে মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম, কাদা ও বেগুন ছোড়া হয়। একসময় তাঁকে ও উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের কার্যত ঘিরে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে মহুয়া মৈত্র পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বিক্ষোভকারীদের সরানো বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেও উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি হামলার নেপথ্যে বিজেপি সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন সাংসদ।
এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনি পথ বেছে নিয়েছেন মহুয়া। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নন।

