রাজধানী কিয়েভে রাতভর শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ভবন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত। বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 03.07.2026 at 1:47 pm
বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃছবি – AI
ছবি – AI
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরে আরও একবার ভয়াবহ হামলার মুখে পড়ল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলা ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে ওঠে গোটা শহর। ইউক্রেন প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৪৯৬টি ড্রোন এবং ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণ, ভবনে আগুন এবং ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা। আতঙ্কে হাজার হাজার বাসিন্দা রাতের অন্ধকারেই বাঙ্কার ও ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলিতে আশ্রয় নেন।
প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, হামলায় প্রায় ১৩০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একাধিক আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জনবহুল অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশে ফিরলেন জেলেনস্কি
হামলার সময় বিদেশ সফরে ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরিস্থিতির খবর পেয়েই নির্ধারিত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে তিনি দ্রুত দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, ইউক্রেনের জন্য প্রতিশ্রুত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো পৌঁছালে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
জেলেনস্কি বলেন, “আমরা অতিরিক্ত কিছু চাইছি না। আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা সময়মতো বাস্তবায়ন করা হলে আরও অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো যেত।”
রাশিয়ার ব্যাখ্যা
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, এই হামলা ছিল ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব। তাদের বক্তব্য, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরই কিয়েভ-সহ বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা প্রমাণ করছে যে যুদ্ধ আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

