ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর; এক মাসের বিশেষ অডিটে যাচাই হবে বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদন ও নিরাপত্তা
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়:
তারাতলা বিপর্যয়ের জেরে বড় সিদ্ধান্ত, কলকাতায় এক মাস বন্ধ সব বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ
তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ধসের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। দুর্ঘটনার নেপথ্যে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পরিকল্পনা এবং আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা পুরসভা এলাকায় চলমান সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।


বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ার তত্ত্বের সমর্থন মেলেনি। বরং নির্মাণগত ত্রুটি ও প্রযুক্তিগত খামতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁর বক্তব্য, “টাকার বিনিময়ে কাজ হলে এরকম বিপর্যয় ঘটতেই পারে।”
বিশেষ অডিটে খতিয়ে দেখা হবে সব প্রকল্প
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পূর্ত দপ্তর, সিভিল ডিফেন্স ও কেএমডিএ-র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের অডিট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামী এক মাসে কলকাতার সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রকল্পের বিল্ডিং প্ল্যান, সরকারি অনুমোদন এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড পরীক্ষা করা হবে।
যে সমস্ত প্রকল্প নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করবে, শুধুমাত্র তারাই ১ আগস্ট থেকে পুনরায় কাজ শুরু করার ছাড়পত্র পাবে।
উদ্ধারকাজে সামনে এল পরিকাঠামোগত ঘাটতি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ধসে পড়া কাঠামোয় ব্যবহৃত ভারী লোহার ফ্রেম সরাতে গিয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়ে উদ্ধারকারী দল। রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন ও কাটিং সরঞ্জাম না থাকায় দ্রুত সেনাবাহিনী এবং এনডিআরএফ-এর সাহায্য নিতে হয়।
এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতের একাধিক বড় দুর্ঘটনার পরও কেন আধুনিক বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।
মৃত ৪, আহত ১৮
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের দেখতে বুধবার সন্ধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী।

মৃত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নজরে জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ
রাজ্য সরকার বিশেষভাবে জলাশয় বুজিয়ে তৈরি হওয়া নির্মাণ প্রকল্পগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে হাওড়া ও বিধাননগর পুরনিগম এলাকাতেও একই ধরনের অডিট চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তারাতলা বিপর্যয়ের পর নির্মাণ শিল্পে এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ শুধু নিরাপত্তা নয়, ভবিষ্যতে অনুমোদন প্রক্রিয়া ও নির্মাণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিল।

