পোষণ ট্র্যাকার অ্যাপেই সংরক্ষিত হবে সমস্ত তথ্য; প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য সরকারের
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়:
অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবায় নতুন অধ্যায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই চলবে তথ্য সংরক্ষণরাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি বা আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে শুরু হতে চলেছে ডিজিটাল প্রশাসনের নতুন অধ্যায়। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ১১টি কাগুজে রেজিস্টার আর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে না। পরিবর্তে শিশু, গর্ভবতী মহিলা, প্রসূতি মা এবং পুষ্টি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সরাসরি আপলোড করা হবে ‘পোষণ ট্র্যাকার’ অ্যাপে।
এই মর্মে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য আইসিডিএস অধিকর্তার দপ্তর। নতুন ব্যবস্থায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিয়মিতভাবে সমস্ত তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে আপডেট করতে হবে।

কমবে কাগজপত্রের বোঝা
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণের চাপ। একাধিক তথ্য আলাদা আলাদা খাতায় নথিভুক্ত করার ফলে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হতো। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে সেই ঝামেলা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ আরও দ্রুত হবে, একইসঙ্গে তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতাও বাড়বে।
পোষণ ট্র্যাকারই হবে মূল ভরসা
কেন্দ্রীয় সরকারের পোষণ অভিযান কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৈরি ‘পোষণ ট্র্যাকার’ অ্যাপকে এবার অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার প্রধান তথ্যভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি, টিকাকরণ এবং মাতৃসুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের মতে, ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে নীতিনির্ধারণ ও পরিষেবা পর্যবেক্ষণও আরও কার্যকর হবে।

VHSND রেজিস্টার আপাতত থাকছে
তবে সমস্ত কাগুজে নথি একযোগে বন্ধ হচ্ছে না। টিকাকরণ সংক্রান্ত VHSND (Village Health Sanitation and Nutrition Day) রেজিস্টার আপাতত চালু থাকবে বলে নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
আধুনিক পরিষেবার পথে রাজ্য
ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বা প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের লক্ষ্যে রাজ্যের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ হবে না, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার গুণগত মানও আরও উন্নত হবে।

১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই সিদ্ধান্ত অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং তথ্যভিত্তিক পরিষেবার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আশা প্রশাসনের।

