তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ৯, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ; ‘কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে বিগত সরকার’, বিধানসভায় বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জন গ্রেফতার, মূল অভিযুক্ত আজগর হোসেনের খোঁজ চলছে।

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় :

তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি প্রত্যেক আহতকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষ দিনে তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যুর ক্ষতি কোনও টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না। কিন্তু সরকারি দায়বদ্ধতা থেকেই যায়। আহতদের পাশে সরকার রয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত তারাতলা দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে প্রায় ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর এবং একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার স্ট্রাকচার নির্মাণের দায়িত্বে থাকা কমল সামন্ত, জমির লিজধারী শম্ভুনাথ বেহেরা, মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ এবং লেবার সাপ্লায়ার দিবাকর ভান্ডারি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত আজগর হোসেনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষ উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক তথা ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক ও মন্ত্রীরাও সেখানে পৌঁছন। রাতভর উদ্ধারকাজ চললেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত ছিল।

বিরোধী বেঞ্চের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসব আপনাদের পাপের ফল। সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে কলকাতা ও বৃহত্তর কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছেন আপনারা।”

তারাতলা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা, নির্মাণে গাফিলতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজ্যবাসীর।