‘নেতানিয়াহু একজন প্রকৃত যোদ্ধা’! লেবাননে হামলার মাঝেই সুর বদল ট্রাম্পের

বঙ্গবার্তা,ওয়েব ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে নাটকীয়ভাবে সুর বদল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিছুদিন আগেও যাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, এবার সেই নেতানিয়াহুকেই ‘একজন প্রকৃত যোদ্ধা’ বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

ওয়াশিংটনে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেছে। নেতানিয়াহু একজন সত্যিকারের যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁরই প্রাপ্য।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তুঙ্গে। দক্ষিণ লেবানন ও বেইরুটে একের পর এক হামলার জেরে সুইৎজারল্যান্ডে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত প্রশ্নের মুখে।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি নেতানিয়াহুকে পরোক্ষ বার্তাও দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, “ইজরায়েল আমাকে সম্মান করে। আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ওনাকে পাগলামি করা থেকে বিরত রাখতে হয়।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সব বিষয়ে যে একমত নন, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তিতে ইরান, লেবানন-সহ গোটা অঞ্চলে নতুন সংঘাত এড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় সেই শান্তি প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শেষদিকে ইজরায়েলে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। হেজবোল্লার বিরুদ্ধে অভিযান থামানো হলে তা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। তাই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে আগ্রহী। অন্যদিকে, আমেরিকা চাইছে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তিকে কার্যকর রাখতে।

ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণেরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।