দলীয় অস্থিরতা, প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন এবং বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের মোমবাতি হাতে রাস্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীরা দেখছে রাজনৈতিক কৌশল, সমর্থকদের দাবি—এ ন্যায়বিচারের লড়াই।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 05.07.2026 at 20:15 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, আভিজিত বসুঃ
ছবি : নিজস্ব
বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই আবহেই ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগান তুলে মোমবাতি হাতে পথে নামলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলনের রাজনীতি তাঁর অন্যতম পরিচয় হলেও, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দলীয় অন্দরের টানাপোড়েন, নেতৃত্বের সংকট এবং নির্বাচন কমিশনে প্রতীক নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই এই কর্মসূচি নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাতে সবুজ মোমবাতি নিয়ে ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’-এর দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমর্থকদের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি অপরাধের বিচার চাওয়ার কর্মসূচি নয়, বরং দলের কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে থাকারও বার্তা।
অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, দলীয় ভাঙন, প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্ক এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে চাপে পড়েই জনমুখী আন্দোলনের পথে ফিরেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁদের মতে, এই কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরাধের বিচারের দাবির থেকেও অনেক বেশি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন, জনসংযোগের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হল সরাসরি আন্দোলন। ফলে বারুইপুর ইস্যুতে তাঁর রাস্তায় নামা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশলেরও ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। সমর্থকদের বক্তব্য, এটি মানবিক অবস্থান ও ন্যায়বিচারের দাবি। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপের পিছনে দলীয় সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আগামী দিনে বারুইপুর তদন্ত, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয় কীভাবে এগোয়, তার উপরই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

