বিধানসভার পিএসি চেয়ারম্যান ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ কানাইয়ালাল আগরওয়াল, বিরোধী শিবিরের হাতে ১০টি স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব

পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে নিয়োগ। ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের হাতে ৯টি এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর হাতে একটি স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদ তুলে দেওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 04.08.2026 at 20:25 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হল ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের হাতে মোট ১০টি স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিরোধী শিবিরের জন্য বরাদ্দ এই ১০টি কমিটির মধ্যে ৯টির চেয়ারম্যান হয়েছেন ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কেরা। অপর একটি স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে। ফলে বিরোধী শিবিরের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

পিএসি চেয়ারম্যান পদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC) বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। সরকারি ব্যয়, হিসাব এবং মহালেখা পরীক্ষকের (CAG) রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই কমিটির মূল দায়িত্ব। সেই কারণেই এই কমিটির চেয়ারম্যান পদকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

আগের নজিরও টানছে রাজনৈতিক মহল

এই নিয়োগ ঘিরে অতীতের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে এর আগে এই পদে বসানো হয়েছিল মুকুল রায় এবং সুমন কাঞ্জিলালকে। তাঁরা বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। সে সময় বিজেপির তরফে আপত্তি জানানো হলেও তৎকালীন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় রীতিনীতির কথা উল্লেখ করে সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন।

নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস এবং বিরোধী শিবিরে নতুন নেতৃত্বের আবহে কানাইয়ালাল আগরওয়ালের পিএসি চেয়ারম্যান হওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিধানসভার কার্যক্রমে নতুন ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত বহন করছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।

আগামী দিনে এই কমিটিগুলির কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় তাঁদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।