কেন্দ্রের ‘ভব্য’ প্রকল্পে বাংলার জোড়া জমি চিহ্নিত, ১৫ অগস্টের পর নতুন শিল্পনীতি

১০০ একরের শর্ত পূরণে নদিয়ার ধুবুলিয়ায় ১১৮.৫ একর, পশ্চিম বর্ধমানে ১৪৮.৬১ একর জমি চিহ্নিত; ভব্য প্রকল্পে কেন্দ্রের ₹৩৩,৬৬০ কোটি তহবিলের বড় অংশ পেতে মরিয়া রাজ্য

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 09.08.2026 at 18:05pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

রাজ্যে শিল্পের প্রসারে এবার কেন্দ্রের ‘ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা’ বা ‘ভব্য’ প্রকল্পকে বড় হাতিয়ার করতে চাইছে নবান্ন। কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পে রাজ্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই দুটি বড় জমি চিহ্নিত করেছে রাজ্যের শিল্প দফতর। নদিয়ার ধুবুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের ঢাকেশ্বরী কটন মিল এলাকায় এই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ১৫ অগস্টের পর রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়।

সম্প্রতি সংসদে ভব্য প্রকল্পে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়। রবিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেন শিল্পমন্ত্রী। বাংলায় শিল্পের পরিবেশ তৈরি করতে সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতাও চান তিনি।

তাপস রায়ের আবেদন, “বাংলার ভালো চাইলে আপনারা একটু হাত বাড়িয়ে দিন।”

ভব্য প্রকল্পে জমি চিহ্নিত

ভব্য প্রকল্পে আবেদন করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, কমপক্ষে ১০০ একর নিষ্কণ্টক সরকারি জমি থাকতে হবে। পাশাপাশি সেই জমির সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। শিল্পমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে এই ধরনের জমি পাওয়া সহজ নয়। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে দুটি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

নদিয়ার ধুবুলিয়ায় ১১৮.৫ একর জমি চিহ্নিত হয়েছে। এই জমিটি আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের অধীনে ছিল। অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের ঢাকেশ্বরী কটন মিলের মোট ১৯৩.২৯ একর জমির মধ্যে ১৪৮.৬১ একর জমি ভব্য প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে কেন্দ্র

গত ৩ জুলাই দিল্লির বাণিজ্য ভবনে ভব্য প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্যের শিল্প দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বন্দনা যাদব উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পে আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা কেন্দ্র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

রাজ্যও কেন্দ্রকে জানিয়েছে, অগস্টের মধ্যেই ডিপিআর বা বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট জমা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ডিপিআর তৈরিতেই কেন দেরি?

প্রকল্পের আবেদন নিয়ে দেরির কারণও ব্যাখ্যা করেছেন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভব্য প্রকল্পে আবেদন করতে হলে ডিপিআর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজ্যে ডিপিআর তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কোনও সংস্থা ছিল না। ফলে নতুন করে টেন্ডার ডেকে সংস্থা নিয়োগ করতে হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ডিপিআর এবং ১০০ একর জমির শর্ত পূরণ না করে প্রস্তাব পাঠালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শিল্প দফতর দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে বলে দাবি তাঁর।

পূর্বতন সরকারকে নিশানা

শিল্প পরিকাঠামো নিয়ে পূর্বতন সরকারকেও এদিন আক্রমণ করেন তাপস রায়। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যে নতুন করে কোনও শিল্প পার্ক তৈরি হয়নি। আগে তৈরি হওয়া শিল্প পার্কগুলিতেও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।

তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি, Ease of Doing Business, ইনসেনটিভ এবং Single Window System— কোনও ক্ষেত্রেই আগের সরকারের কাছ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমান সরকারকে শূন্য থেকে কাজ শুরু করতে হচ্ছে।

কেন্দ্রের ₹৩৩,৬৬০ কোটি তহবিলে বাংলার নজর

ভব্য প্রকল্পে কেন্দ্রের মোট বরাদ্দ ₹৩৩,৬৬০ কোটি। এই বিপুল তহবিলের একটি বড় অংশ বাংলায় নিয়ে আসাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আগামী ১১ অগস্ট সকাল ১১টায় শিল্পপতি ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবে রাজ্য সরকার।

এই বৈঠকের পরেই নতুন শিল্পনীতির চূড়ান্ত রূপরেখা আরও স্পষ্ট হতে পারে। শিল্পমন্ত্রীর ইঙ্গিত, ১৫ অগস্টের পর রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করা হতে পারে।

টাটার সঙ্গেও আলোচনায় নবান্ন

শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টাটা গোষ্ঠীকেও রাজ্যে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার পাশাপাশি অটোমোবাইল শিল্পের বাইরেও টাটা গোষ্ঠীর অন্যান্য ব্যবসা বাংলায় আনার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে দাবি তাঁর।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের ভব্য প্রকল্প, নতুন শিল্পনীতি এবং বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে বিনিয়োগে টানার উদ্যোগ— এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে রাজ্যে নতুন শিল্পপর্বের সূচনার চেষ্টা করছে নবান্ন।