পাঠ্যপুস্তকে শ্যামাপ্রসাদ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির দাবি, বিধানসভায় সরব মন্ত্রীরা

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর সওয়াল—ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান, বাংলা ভাগের ইতিহাস এবং গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-নোয়াখালীর ঘটনাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি।

কোলকাতাঃ জ্যোতির্ময় দত্ত

পশ্চিমবঙ্গের গঠন-ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সরব হলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বিধানসভায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, অবিভক্ত বাংলার শেষ পর্যায়ের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৬ সালের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’, গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এবং পরবর্তী নোয়াখালী-ঢাকার সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অধ্যায়গুলি মূলধারার ইতিহাস চর্চায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন বিধানসভায়

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের তারিখ প্রসঙ্গেও নিজের মত প্রকাশ করেন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর মতে, পয়লা বৈশাখ বাঙালির সাংস্কৃতিক উৎসব হলেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে ২০ জুনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

এদিন বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেওয়া ৫৮ জন বিধায়কের অবদান স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির উদ্দেশে কলকাতায় ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তাপস রায়।

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

অনুষ্ঠানে স্পিকার রথীন্দ্র বোস, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদদৎ মুখোপাধ্যায়, চিফ হুইপ অম্লান ভাদুড়ী, প্রাবন্ধিক ড. মোহিত রায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফরের বিষয়টিও বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে।