সরকারি কর্মীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব; স্বচ্ছতা ও দ্রুত কাজের জন্য শীঘ্রই চালু হচ্ছে বিশেষ ওয়েবসাইট
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 10.08.2026 at 19:05 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পরই সরকারি কর্মীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগোলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা আগেই হয়েছিল। এ বার সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হল সপ্তম বেতন কমিশন কমিটির প্রথম বৈঠক। বৈঠকে কমিশনের কাজের রূপরেখা, কর্মচারীদের বেতন কাঠামো এবং বিভিন্ন ভাতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
প্রথম বৈঠকেই কমিশনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা মিলেছে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্রুত কাজ, তথ্য মিলবে ওয়েবসাইটে
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সপ্তম বেতন কমিশনের যাবতীয় কাজ, অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাতে সরকারি কর্মীরা সহজেই জানতে পারেন, তার জন্য পৃথক ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সেটি সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
নবান্নের এক আধিকারিকের বক্তব্য, কমিশনের কাজের অগ্রগতি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিত ওই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ফলে সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত আপডেট পেতে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না।

৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ হতে পারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার।
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা বছরে ৩ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন প্রস্তাবে সেটি বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টি রাখা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির অঙ্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমান বাজারদর ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন বেতন কাঠামো তৈরির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের সঙ্গে বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্যের ভাবনা
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন কাঠামোর পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব রয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাড়ছে ক্যালোরির মানদণ্ড
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুষ্টির মানদণ্ডেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ২,৭০০ ক্যালোরিকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হলেও তা বাড়িয়ে ৩,৪৯০ ক্যালোরি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ন্যূনতম বেতনের হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিএ নিয়ে স্থায়ী নির্দেশিকার ভাবনা
মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়েও স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে সপ্তম বেতন কমিশন। সূত্রের খবর, ডিএ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ বা স্থায়ী নির্দেশিকা জারির সুপারিশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ডিএ নিয়ে সরকার ও কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বাড়ি ভাড়া থেকে সন্তানদের পড়াশোনা—একাধিক ভাতায় নজর
শুধু মূল বেতন বা ইনক্রিমেন্ট নয়, বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।
বাড়ি ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং হস্টেল ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলিকে কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্যও একাধিক প্রস্তাব
সপ্তম বেতন কমিশনের নজরে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও। কমিউটেড পেনশন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা কমিয়ে ১১ বছর করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়াও অবসরের সময় জমা ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সপ্তম বেতন কমিশনের প্রথম বৈঠককে ঘিরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সরকারি কর্মী মহলের।

