‘আন্ডা আন্ডা বলে মিছিল করেছিলেন!’— ইসকনের মিড-ডে মিল প্রকল্পের সূচনায় বিরোধীদের কড়া জবাব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতার ৫০০টি স্কুলে ইসকনের রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন। সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার ঘোষণা, রাঁধুনিদের চাকরি ও বেতন নিয়েও বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 01.08.2026 at 20:35 Pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত

দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ইসকনের মিড-ডে মিল প্রকল্প। শনিবার তারাতলায় ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেন থেকে এই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দিনেই কলকাতা পুরসভার অধীন ৫০০টি প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার হাতে পৌঁছে যায় ইসকনের প্রস্তুত করা পুষ্টিকর খাবার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসকনের নিরামিষ রান্নার পাশাপাশি সপ্তাহে দু’দিন পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া হবে, তবে তা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থায় বিতরণ করা হবে। ডিম নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন,

“প্রথম থেকেই ‘আন্ডা আন্ডা’ বলে মিছিল বার করে দিলেন! কিছু না জেনেই মন্তব্য করা শুরু করলেন। আগে শিক্ষা দফতর বা ইসকনের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল।”

তিনি আরও জানান, ইসকনের নিজস্ব ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রেখেই সরকার পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ওড়িশায় ইসকনের পরিচালিত স্কুলগুলির অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখার পরই রাজ্য সরকার সপ্তাহে দু’দিন আলাদা করে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাঁধুনিদের চাকরি থাকবে, বাড়ছে বেতনও

মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে যাওয়ায় বর্তমান রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেদিনই তার অবসান ঘটান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, কোনও রাঁধুনিকে কাজ হারাতে হবে না। তাঁদের ইসকনের রান্না ও খাবার বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

শুধু তাই নয়, আগস্ট মাস থেকেই মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

পরিচ্ছন্ন, পুষ্টিকর ও আধুনিক ব্যবস্থা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে যজ্ঞে অংশ নেন, পরে সেন্ট্রাল কিচেন ঘুরে দেখেন এবং প্রতীকীভাবে রান্নার কাজেও অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে খাবার সরবরাহের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন তিনি।

সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিচ্ছন্নতা, গুণমান ও পুষ্টি নিশ্চিত করেই এই প্রকল্প পরিচালিত হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।”

বর্তমানে কলকাতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও ভবিষ্যতে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই মডেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।