এসটিএফের হাতে ধৃত সন্দেহভাজন জঙ্গিকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগের মাঝেই নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু রাজনৈতিক জল্পনা।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 02.08.2026 at 20:55 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিতএবং নিজস্ব
পূর্ব বর্ধমানে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর হাতে ধৃত এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হঠাৎ সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে কার্যত নীরব থাকার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

পার্থের পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা এবং দল—উভয় থেকেই সরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হলেও সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য উদ্বেগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। অনেকের প্রশ্ন, এটি কি শুধুই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ, নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও নতুন বার্তা?
তদন্তে কী উঠে এসেছে?
এসটিএফ সূত্রে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, ধৃত হামিম মণ্ডলের সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক একাধিক হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘রানা’, ‘উজাইর’, ‘আবিদ জাট ৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশও ধৃত ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলি আদালতে প্রমাণিত নয়।
‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়’ বললেন পার্থ
নিজের পোস্টে পার্থ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলা নয়; বরং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল র্যাডিক্যালাইজেশন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে জড়িত।
তিনি প্রশাসনের কাছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ এবং দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন।
রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

দীর্ঘ নীরবতার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
তবে আপাতত এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে তদন্তের অগ্রগতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা।

