বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে ১৯৪৭-এর ঐতিহাসিক ভোটাভুটি থেকে বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে বিধায়কদের মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতিতে জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 03.07.2026 at 11:25 am
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, জ্যোতির্ময় দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
নবনির্বাচিত বিধায়কদের সামনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ১৮তম বিধানসভার সদস্যদের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল বিধানসভা এবং জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাই সুস্থ প্রশাসনের অন্যতম শর্ত।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
দেশভাগের ইতিহাস তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী
ভাষণের শুরুতেই ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিধানসভার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে বিধানসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে ঠিক হয়েছিল বাংলা ভারতের অংশ হবে নাকি পাকিস্তানের। সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, আজকের পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব এবং ভারতের সঙ্গে বাংলার সংযুক্তির পিছনে সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অবদান অনস্বীকার্য।
‘আগে বিধায়কদের মর্যাদা ছিল না’
পূর্ববর্তী সরকারগুলির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন প্রশাসনিক কাঠামোয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব কমে গিয়েছিল। তাঁর কথায়, একসময় একজন বিধায়ক বা সাংসদের ফোন পর্যন্ত প্রশাসনের অনেক আধিকারিক গ্রহণ করতেন না। বিরোধী প্রতিনিধিদের সরকারি কর্মসূচিতেও আমন্ত্রণ জানানো হতো না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতা থাকার সময় তাঁকেও একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং বিধানসভায় বারবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
নতুন সরকারের দাবি—সব বিধায়কের জন্য সমান সুযোগ

বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের পর থেকে প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সকল জনপ্রতিনিধির সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
বাংলার সম্ভাবনার ওপর জোর
শেষে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর, রেল যোগাযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানবসম্পদের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকাশও হবে, ঐতিহ্যও রক্ষিত হবে’ নীতিকে সামনে রেখে আগামী দিনে বাংলা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

