Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.07.2026 at 17:46 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,অবধেশ চৌধুরী :
ছবি -নিজস্ব
নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান রাজ্য সরকারের। ১০০ দুষ্কৃতীর পরিচয় শনাক্তের দাবি, সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির ঘোষণা।
বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসা এবং মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়াল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বারুইপুরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। পাশাপাশি নির্যাতিত নাবালিকার পরিবার এবং মব লিঞ্চিংয়ে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল-এর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রশাসনিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তে কোনও পুলিশ আধিকারিকের গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক তদন্তে নতুন তথ্য
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে মব লিঞ্চিংয়ে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে মূল অপরাধে জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তাই একজন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
বারুইপুরে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং রেললাইন অবরোধের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রায় ১০০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে যদি অশান্তি উস্কে দেওয়ার পিছনে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ভূমিকা প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি
নিরাপত্তা জোরদার করতে সূর্যপুর এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ভাড়া ভবন থেকেই পরিষেবা চালু হবে।
আগামী সপ্তাহে আবার বারুইপুর সফরে এসে দুই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনের কথাও জানান তিনি।
সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা
বারুইপুর সফরে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন।
মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স
বারুইপুর থেকেই রাজ্যের সমস্ত থানার আধিকারিকদের ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), পকসো আইন এবং আদালতের নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার আগের রাতে নাবালিকার নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের হওয়ার পর পুলিশ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সামান্যতম গাফিলতিও প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি পুনরায় সতর্ক করেন।

