রাজ্য কমিটির পর এবার জেলা স্তরেও সংগঠন গড়ল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। একাধিক জেলায় নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা, বৈঠকে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা নির্মল ঘোষকে ঘিরে শুরু নতুন বিতর্ক।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 11.07.2026 at 19:25 Pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কোলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পথে আরও এক ধাপ এগোল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সমান্তরাল তৃণমূল। রাজ্য কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্তরের নতুন নেতৃত্বের তালিকা প্রকাশ করে বিদ্রোহী শিবির স্পষ্ট বার্তা দিল—তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়া।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বীরভূম জেলা। সেখানে ফের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমে অনুব্রতকে সামনে আনা বিদ্রোহী শিবিরের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা জেলার পুরনো সাংগঠনিক সমীকরণকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
একাধিক জেলায় নতুন নেতৃত্ব

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ-সহ একাধিক জেলার দায়িত্বে নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ নেতাদের আনা হয়েছে। পাশাপাশি দলের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মুখপাত্রদেরও ঘোষণা করা হয়েছে। দলের চিফ মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্মল ঘোষকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
শনিবারের সাংগঠনিক বৈঠকের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর তাঁর হঠাৎ উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দেয়।
বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি বিতর্কে তাঁর নাম উঠে আসার পর থেকেই তিনি কার্যত জনসমক্ষে ছিলেন না। সেই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক কৌতূহল বাড়িয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে নির্মল ঘোষ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমাদের হৃদয়-প্রাণ আছে। বাকিটা কী হবে…”—এর বেশি কিছু না বলেই তিনি বৈঠকস্থলে প্রবেশ করেন।
রাজনৈতিক বার্তা কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জেলা কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে ঋতব্রত শিবির স্পষ্ট করেছে যে তারা সাংগঠনিকভাবে নিজেদের বিস্তার ঘটাতে চাইছে। একইসঙ্গে পরিচিত রাজনৈতিক মুখদের সক্রিয় উপস্থিতি এই নতুন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে।
তবে এই নতুন সাংগঠনিক উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের বিস্তার এবং রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির ওপর। বিদ্রোহী শিবিরের এই পদক্ষেপে মূল তৃণমূল নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

