হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ মেনেই শব্দদূষণ রোধে অভিযান চলছে বলে দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর তথ্য— মসজিদ থেকে ৪,২০৩টি ও মন্দির থেকে ১,০৯৬টি লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে, সবই আলোচনার মাধ্যমে।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 06.08.2026 at 20:20 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
মসজিদের লাউডস্পিকার জোর করে খুলে দেওয়া হচ্ছে— বিরোধীদের এমন অভিযোগের জোরালো জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করা হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে এবং সেই অভিযানে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির থেকেও নিয়ম মেনে লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে।
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, এখন পর্যন্ত মোট ৫,২৯৯টি লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে। এর মধ্যে মসজিদ থেকে ৪,২০৩টি এবং মন্দির থেকে ১,০৯৬টি লাউডস্পিকার খুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কোথাও কোনও জোরজুলুম করা হয়নি; স্থানীয় কমিটি ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ৩৪টি পুলিশ জেলায় বিশেষ অভিযান চলছে। পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্দির বা মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন মেনে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বারুইপুরে মসজিদ থেকে ১২৪টি ও মন্দির থেকে ৩৪টি, আর ডায়মন্ড হারবারে মসজিদ থেকে ৭৫টি ও মন্দির থেকে ৫টি লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং আইন মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, বর্তমান সরকার নতুন কোনও আইন তৈরি করছে না; আদালতের নির্দেশই কার্যকর করছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে কেউ যদি সমাজে বিভ্রান্তি বা উস্কানি ছড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

