নিয়মিত ক্লাসে কোনও প্রভাব পড়বে না, স্কুলের পড়াশোনা অক্ষুণ্ণ রেখেই জনগণনার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ। শিক্ষকদের ‘মর্নিং স্কুল’-এর প্রস্তাবের পরেই জারি হল নতুন বিজ্ঞপ্তি।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 04.08.2026 at 13:15 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দফতর। বিদ্যালয়ের নিয়মিত পঠনপাঠন যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই সোমবার একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, জনগণনার কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করতে হবে যাতে স্কুলের ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমে কোনও প্রভাব না পড়ে। প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুল ছুটির পর অথবা সপ্তাহান্তে (Weekend) জনগণনার দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাই সরকারের অগ্রাধিকার। তাই জনগণনার দায়িত্ব পালনের সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান বিঘ্নিত না হয়।
‘মর্নিং স্কুল’-এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন শিক্ষকরা
কিছুদিন আগেই জলপাইগুড়িতে এক শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রস্তাব দেন, জনগণনার কাজের সুবিধার্থে কিছুদিনের জন্য স্কুলে ‘মর্নিং স্কুল’ চালু করা হোক। এতে দিনের বাকি সময় তাঁরা জনগণনার কাজে অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রী সেই প্রস্তাবের কথা স্বীকার করে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেছিলেন,
“শিক্ষকরা আমাকে মর্নিং স্কুল করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি তাঁদের বক্তব্য শুনেছি। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এরপরই সোমবার শিক্ষা দফতরের নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়।
পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের উদ্বেগ
আসন্ন জনগণনার কাজে বিভিন্ন সরকারি দফতরের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, জনগণনার কাজে ব্যস্ত থাকলে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষ করে পরীক্ষার মরশুম সামনে থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, জনগণনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কীভাবে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
শিক্ষা ও প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্যের চেষ্টা
শিক্ষা দফতর সূত্রের ইঙ্গিত, সরকারি দায়িত্ব পালন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) কর্মসূচিতেও বহু শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় একাধিক ক্ষেত্রে পঠনপাঠনে ব্যাঘাতের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগেই স্পষ্ট নির্দেশ জারি করে শিক্ষা ব্যবস্থায় যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।

