পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ঋণ জালিয়াতি মামলায় হাওড়া থেকে গ্রেফতার মানস রায়, তাপস রায় ও তন্ময় রায়। তদন্তে ভুয়ো বিল্ডিং স্যাংশন প্ল্যান, সিস্টার কনসার্নে টাকা সরানোর অভিযোগ; ব্যাঙ্ক কর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 15.07.2026 at13 :10 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
প্রায় এক দশক পুরনো পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-এর বহুল আলোচিত ঋণ জালিয়াতি মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। ভুয়ো বিল্ডিং স্যাংশন প্ল্যান জমা দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার ঋণ নেওয়ার অভিযোগে হাওড়া থেকে তিন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিডি এসআইটি (DD SIT)-র বিশেষ দল।
ধৃতদের নাম মানস রায়, তাপস রায় এবং তন্ময় রায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে হাওড়ার নন্দলাল চ্যাটার্জি লেনের একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেল-এর আধিকারিকরাও অংশ নেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের সিআর অ্যাভিনিউ শাখার তৎকালীন চিফ ম্যানেজার হেয়ার স্ট্রিট থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘মেসার্স ইনিংস ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ডিরেক্টররা প্রথমে কটন ফ্যাব্রিক ব্যবসার নামে ঋণ নেন। পরে ব্যবসা সম্প্রসারণের অজুহাতে এফএমসিজি পণ্য এবং এসি-ফ্রিজের ব্যবসার কথা জানিয়ে ৩.৯০ কোটি টাকার ক্যাশ ক্রেডিট লোন অনুমোদন করান।
তদন্তে উঠে আসে, ঋণ পাওয়ার জন্য অভিযুক্তরা হাওড়া পুরসভার একটি ভুয়ো বিল্ডিং স্যাংশন প্ল্যান জমা দিয়েছিলেন। ৭ কাঠা জমিতে ১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের ওই নকশা সম্পূর্ণ জাল বলে লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছে হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন।
গত রাতের তল্লাশিতে ধৃতদের বাড়ি থেকে ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বিভিন্ন ভুয়ো ও সিস্টার কনসার্ন কোম্পানির মাধ্যমে ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। পাশাপাশি এই জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাঙ্কের কোনও আধিকারিকের ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

