তৃণমূলে ‘মহাভাঙন’! অভিষেক সাসপেন্ড, মমতা শুধু উপদেষ্টা—দলের নিয়ন্ত্রণ এখন ঋতব্রত শিবিরের হাতে

বহিষ্কৃত নেতা থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন কমিটি গড়ে মমতা-অভিষেক যুগে বড় ধাক্কা ‘আসল তৃণমূল’-এর।

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, আভিজিত বসুঃ

বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাসখানেক আগে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল, সেই ঋতব্রতের নেতৃত্বেই এখন তৈরি হয়েছে নতুন শক্তিকেন্দ্র। আর সেই শিবিরের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তৃণমূলের পুরনো নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষমতা প্রদর্শন। কারণ এতদিন দলীয় কাঠামোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে ধরা হত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই নেতাকেই দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যত নতুন ক্ষমতার সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হতে শুরু করে। একে একে বহু বিধায়ক, সাংসদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে নতুন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে সংগঠন এবং পরিষদীয়—দুই ক্ষেত্রেই দুর্বল হয়ে পড়ে পুরনো নেতৃত্ব।

সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সেখানে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘আসল তৃণমূল’-এর চেয়ারপার্সন করা হয়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জায়গা পান ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং রথীন ঘোষ। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাখা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, নতুন কাঠামোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কোনও কার্যকর সাংগঠনিক পদ রাখা হয়নি। তাঁকে শুধুমাত্র উপদেষ্টা হিসেবে রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন যে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই দলের নতুন কাঠামোয় তাঁর ভূমিকা এখন পরামর্শদাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এরপরই বৈঠকে প্রস্তাব এনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণভাবে অন্য একটি গোষ্ঠীর হাতে।

একসময় যাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল, আজ তিনিই সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দু। আর যাঁরা এতদিন দলের শীর্ষে ছিলেন, তাঁরা ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। ফলে তৃণমূলের অন্দরে এই ক্ষমতার লড়াই আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।