জলবায়ু সংকটের লাল সতর্কতা! ইউরোপজুড়ে দাবদাহের তাণ্ডব, ফ্রান্স-স্পেনে ৪০ ডিগ্রি পেরোল পারদ

ফ্রান্সে গরমে তিন প্রবীণের মৃত্যু, হাজার হাজার স্কুলে ছুটি; স্পেনে রেড অ্যালার্ট, ব্রিটেনে ভাঙতে পারে জুন মাসের ৭০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড।

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্ক:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা—তারই ভয়াবহ প্রমাণ মিলছে ইউরোপের চলমান তাপপ্রবাহে। জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই ইউরোপের একাধিক দেশ রেকর্ড ভাঙা গরমের কবলে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, ব্রিটেন, বেলজিয়ামসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। চরম গরমের জেরে ইতিমধ্যেই তিন প্রবীণের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ৪৯টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি প্রায় ২,৭০০টি স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা পাঠদানের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের বোর্দো অঞ্চলে পারদ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

স্পেনেও কম নয় তাপপ্রবাহের তীব্রতা। বাস্ক অঞ্চলসহ একাধিক এলাকায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছানোর সম্ভাবনায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু স্থানে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। কিছু অঞ্চলে সেই ব্যবধান ১০ ডিগ্রিরও বেশি।

এবার সেই তাপপ্রবাহ পৌঁছে গিয়েছে ব্রিটেনেও। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে। এমনটা হলে ভেঙে যেতে পারে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। বর্তমানে জুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৫৭ এবং ১৯৭৬ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল।

চরম গরমের প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ নেই। বেলজিয়ামে বিভিন্ন প্রাণী উদ্ধারকেন্দ্রে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া পাখি ও বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রিটেনের হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রেল পরিষেবাকে সম্ভাব্য তাপপ্রবাহজনিত জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরিবেশবিদদের মতে, ইউরোপের এই পরিস্থিতি গোটা বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা।