৫০ হাজার শিক্ষক, ২০ হাজার পুলিশ কর্মী নিয়োগের ঘোষণা; অগ্নিবীরদের জন্যও বিশেষ কোটা, বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড় বহাল আরও দুই বছর
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,জ্যোতির্ময় দত্ত:
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এক লক্ষ সরকারি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। শিক্ষা, পুলিশ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই রাজ্যজুড়ে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদ পূরণের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
শিক্ষা ও পুলিশে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষা দফতরে ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পুলিশ বিভাগে ২০ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি পদগুলি বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পূরণ করা হবে।

মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৩৩ শতাংশ পদ
এই নিয়োগে নারী ক্ষমতায়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট শূন্যপদের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে প্রায় ৩৩ হাজার মহিলা সরাসরি সরকারি চাকরির সুযোগ পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অগ্নিবীরদের জন্য বিশেষ সুযোগ
কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্নিপথ প্রকল্পে কর্মরত থেকে ফিরে আসা অগ্নিবীরদের জন্যও বিশেষ সংরক্ষণের ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে নিয়ম প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
বয়সসীমায় মিলল বড় স্বস্তি
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় যে অতিরিক্ত ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আরও দু’বছরের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বহু চাকরিপ্রার্থী নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

ভাতা ও বেতন বৃদ্ধির ঘোষণাও
চাকরির ঘোষণার পাশাপাশি বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য ভাতা বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পার্শ্বশিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই হারে বৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে মিড-ডে মিল কর্মীদের জন্য ১ হাজার টাকা এবং সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড, গ্রিন পুলিশ ও এনভিএফ কর্মীদের জন্য ২ হাজার টাকা ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি এবং এক লক্ষ নতুন চাকরির ঘোষণা এই বাজেটকে কর্মসংস্থানমুখী বাজেট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন নজর থাকবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কত দ্রুত শুরু হয় তার দিকে।

