বৈঠকে ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’-এর অভিযোগ ডেরেক ও’ব্রায়েনের; পুলিশের বক্তব্যকে ‘তথ্যের ভুল উপস্থাপনা’ বলে দাবি। ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি ঘিরে নতুন করে জোরালো রাজনৈতিক বিতর্ক।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 02.07.2026 at 13:25 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত :
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে তুঙ্গে তরজা, কলকাতা পুলিশকে কড়া ই-মেল তৃণমূলের
আসন্ন ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার প্রকাশ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডেরেক ও’ব্রায়েন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর)-কে একটি কড়া ই-মেল পাঠিয়ে পুলিশের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন।
ই-মেলে ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে, পুলিশ তার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। তাঁর দাবি, বৈঠক শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয় এবং কার্যত আলোচনার সুযোগই রাখা হয়নি।

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রতি বছর ধর্মতলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে শহিদ দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই ধরনের একতরফা অবস্থান সমাবেশের প্রস্তুতিতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করছে। দলের বক্তব্য, এত বড় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকা জরুরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক ধর্মতলায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে এই ই-মেল প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে এই ধরনের মতবিরোধ আগামী দিনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর থাকবে, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হয় কি না এবং নির্ধারিত দিনে ধর্মতলার কর্মসূচি কীভাবে সম্পন্ন হয়।

