মহিলা সাংসদদের অপমান ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধের পর নতুন বিতর্কে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 02.07.2026 at 15:30 pm
বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং সোশ্যাল মিডিয়া
কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। মহিলা সাংসদদের অপমান এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন একদিন আগেই ধর্মতলায় কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সভামঞ্চে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সংসদে কী ঘটেছিল?
বুধবার লোকসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পর তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির তথা এনসিপিআই-এর সাংসদদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন এবং দলবদল নিয়ে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে শতাব্দী রায়, মিতালী বাগ-সহ একাধিক মহিলা সাংসদ তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন।
এরপর স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের অপমান এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ বিবেচনা করেই তাঁকে বাদল অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়।

সাসপেন্ড হওয়ার পরও কটাক্ষ
লোকসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,
“প্রয়োজনে সংসদের বাইরে থাকব, কিন্তু বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।”
এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই শুরু বিতর্ক
মঙ্গলবার ধর্মতলায় কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়া নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির পর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সভামঞ্চ ছেড়ে বেরিয়েও যান তিনি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সংসদে তাঁর সাসপেনশন রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
কালীঘাট তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা
রাজনৈতিক মহলের মতে, কালীঘাট তৃণমূলের হাতে বর্তমানে সীমিত সংখ্যক সাংসদ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ, যিনি সংসদে দলের প্রধান বক্তা এবং মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অনুপস্থিতি সংসদে দলের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য,
“কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। যাঁরা বেইমানদের রক্ষা করছেন, তাঁরাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কল্যাণদা যা বলেছেন, তা ঠিকই বলেছেন।”
এদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, সংসদের শালীনতা বজায় রাখতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত যথাযথ। ফলে বিষয়টি আগামী দিনেও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

