নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ধর্মতলার বিক্ষোভ ঘিরে ৭টি এফআইআর, চিহ্নিত ৭০ জন অভিযুক্ত। পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 25.07.2026 at 18:50 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে হওয়া বিক্ষোভ ও জমায়েত ঘিরে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, রাস্তা অবরোধ এবং অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে ইতিমধ্যেই মোট ৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন (Goonda Act) যুক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এমন ব্যবস্থা করব, তিন পুরুষ মনে রাখবে।” তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে একজনও ছাত্র নন এবং আন্দোলনের মূল সংগঠনের সদস্যও নন। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বহিরাগতরা বিশৃঙ্খলা ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
৭টি এফআইআর, একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৬টি এবং এন্টালি থানায় ১টি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে।
এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পতাকা, ব্যানার ও গাড়ি নিয়ে রাস্তা দখল করে ফেলেন। বহুবার মাইকিং করে জমায়েতকে বেআইনি ঘোষণা করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়। বরং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের মামলায় বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, রাস্তা অবরোধ, উস্কানি, বিদ্বেষ ছড়ানো, সরকারি নির্দেশ অমান্য এবং হামলার মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ
ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। অভিযোগ, কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয় এবং কয়েকজন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
তিনি বলেন, আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। পুলিশের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উস্কানিতে না পা দিয়ে সংযত আচরণেরও প্রশংসা করেন তিনি।
‘বহিরাগতদের’ বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের পাশাপাশি এমন বহু ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিলেন, যাঁদের নিট আন্দোলনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগতরা এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট জানান, যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে গুন্ডাদমন আইনেও মামলা চালানো হবে।

