৬ মাসে প্রায় ৬০ হাজার টিনএজ ডেলিভারি! নাবালিকার বয়স ১৮ বছরের কম প্রমাণিত হলে পকসো ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা, সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.09.2026 at 16:25 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
রাজ্যে নাবালিকা গর্ভধারণ এবং বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ বছরের কম বয়সি কিশোরীদের গর্ভধারণ ও প্রসবের ঘটনা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট স্বামীদের শোকজ নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) আওতায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার টিনএজ ডেলিভারি নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রসব হওয়ায় এই ঘটনাগুলির তথ্য প্রশাসনের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মুর্শিদাবাদে সর্বাধিক টিনএজ ডেলিভারি
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় জেলায় নাবালিকা গর্ভধারণের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সর্বাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদে—১২,৮৪৭টি। এরপর রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া-সহ একাধিক জেলা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে প্রসবের কারণে এই ঘটনাগুলি সরকারি নথিতে উঠে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির কাছে বয়স সংক্রান্ত নথি চাওয়া হবে।
এক মাসের মধ্যে বয়সের প্রমাণপত্র
প্রশাসনের তরফে প্রতিটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছে এক মাসের মধ্যে বয়সের প্রমাণপত্র চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নথি যাচাইয়ের পর যদি দেখা যায় যে প্রসবের সময় সংশ্লিষ্ট কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম ছিল, তাহলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হতে পারে।
শুধু স্বামী নয়, সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে শুধু স্বামীর বিরুদ্ধেই নয়, বিয়েতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাজি, পুরোহিত, অভিভাবক কিংবা অন্য কোনও সহযোগী যদি বাল্যবিবাহে সহায়তা করেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা নিয়েও হুঁশিয়ারি
বাল্যবিবাহের ঘটনায় যুক্ত পরিবারগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, প্রশাসনিক নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যে নাবালিকা গর্ভধারণ এবং বাল্যবিবাহের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বাল্যবিবাহের ঘটনা চিহ্নিত করা সহজ হবে, তেমনই নাবালিকাদের সুরক্ষা এবং তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নজরদারি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

