মৎস্যশিল্পে বাংলার জন্য বড় ঘোষণা, PMMSY-তে নতুন করে জোর! প্রায় ৯ কোটি টাকার বরাদ্দ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, মৎস্যচাষ, সুন্দরবন, রফতানি থেকে কোল্ড ওয়াটার ফিশারিজ—একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের রূপরেখা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 21.09.2026 at 19:23 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যশিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হল। সোমবার নিউটাউনে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরে কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়নমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকের পর মৎস্যক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা আরও বিস্তৃত করার কথা জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মৎস্যশিল্পের উন্নয়নে রাজ্যের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের নথিভুক্তিকরণ, আধুনিক মৎস্যচাষ, পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিপণন এবং রফতানি বাড়ানোর মতো একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই PMMSY-এর আওতায় একাধিক প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে রাজ্যে PMMSY-র অধীনে মোট ₹৫৪৬.৩৮ কোটি প্রকল্পমূল্যের মধ্যে ₹২২৩.১৯ কোটি কেন্দ্রীয় অংশ অনুমোদিত এবং ₹৮৭.০৪ কোটি কেন্দ্রীয় অর্থ ছাড়া হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের নথিভুক্তিকরণে জোর

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন সরকারের সময়ে মৎস্য দফতরের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি পোর্টালে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে এবং তার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মৎস্যজীবীর নথিভুক্তিকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মৎস্যজীবীদের ডিজিটাল নথিভুক্তিকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ বাড়ানো বর্তমানে কেন্দ্রীয় মৎস্যনীতিরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। PM-MKSSY-এর অধীনে National Fisheries Digital Platform-এর মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের ডিজিটাল পরিচয় তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং—বৈঠকে একাধিক বিষয়

বৈঠকে রাজ্যের মৎস্যশিল্পের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। এর মধ্যে ছিল—

  • উপকূলীয় মৎস্যচাষ
  • সুন্দরবন অঞ্চলে মৎস্যচাষের সম্ভাবনা
  • ব্র্যাকিশ ওয়াটার অ্যাকোয়াকালচার
  • দার্জিলিং ও কালিম্পঙে কোল্ড ওয়াটার ফিশারিজ
  • মাছ ধরার বন্দর ও অবতরণকেন্দ্র
  • মাছের বিপণন পরিকাঠামো
  • মাছ ও সামুদ্রিক পণ্যের রফতানি
  • মৎস্যজীবীদের কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ

সরকারি নথিতেও পশ্চিমবঙ্গে মাছ ধরার বন্দর ও ল্যান্ডিং সেন্টার সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের ১০টি প্রকল্পের মোট প্রকল্পমূল্য ছিল ₹৭১.৭৮ কোটি এবং যোগ্য অর্থায়নের পরিমাণ ₹৪৯.৬০ কোটি।

কর্মসংস্থান ও রফতানিতে নজর

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘ উপকূলরেখা, নদী-নালা ও বিস্তীর্ণ জলাশয়ের কারণে পশ্চিমবঙ্গে মৎস্যশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন ও রফতানি পরিকাঠামো তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাকোয়াকালচার, উন্নত মানের মাছ উৎপাদন এবং বড় বাজারে সরবরাহের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় ‘অমৃত সরোবর’

মৎস্যচাষের প্রসারে শুধু উপকূলীয় অঞ্চল নয়, অপেক্ষাকৃত শুষ্ক জেলাগুলিকেও পরিকল্পনার মধ্যে আনা হচ্ছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলায় জল সংরক্ষণ এবং মৎস্যচাষ বাড়াতে ছ’টি ‘অমৃত সরোবর’ তৈরির অনুমোদনের কথাও এদিন জানানো হয়েছে।

এর ফলে জল সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে মৎস্যচাষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে মৎস্যশিল্পে নতুন উদ্যোগ

বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে মৎস্যশিল্পে নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, রফতানি বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

তবে PMMSY নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—এটি ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ সময়কালের মূল মেয়াদের কেন্দ্রীয় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প হলেও এর আওতায় বিভিন্ন উপ-প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পরবর্তী সময়েও চলছে।

ফলে সোমবারের বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গে মৎস্যক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প, অর্থায়ন ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *