সীমান্ত সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: বিএসএফ-কে ১,০২৪.৭৫ একর জমি হস্তান্তর, ১৭২ কিমি সীমান্তে জোরদার হবে নিরাপত্তা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্ত চৌকি ও নজরদারি পরিকাঠামো গড়তে দ্রুত জমি হস্তান্তর; অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে সরকারের বড় উদ্যোগ।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 14.07.2026 at 17:25 Pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, মৃণাল কান্তি সরকার :

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ১,০২৪.৭৫ একর জমি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই জমির উপর ভিত্তি করে ১৭২.৩৬৯২২ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্ত চৌকি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে যাবে।

সরকারের দাবি, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ রুখতে দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফ-এর অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন ছিল। সেই চাহিদা পূরণ করতেই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এর ফলে সীমান্তে নজরদারি আরও কার্যকর হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি হস্তান্তর হয়েছে নদিয়া জেলায়। সেখানে ৫৯৫.১১ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৪.৯৭৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মুর্শিদাবাদে হস্তান্তর করা হয়েছে ৩৩৭ একর জমি, যা ৪৫.৪০৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার উন্নয়নে সহায়ক হবে। উত্তর ২৪ পরগনায় ২৪১.০৩ একর জমি হস্তান্তরের ফলে ৪২.০৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগোবে।

এছাড়া মালদায় ১৭৬.৭৮ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২৬.৪১ একর, উত্তর দিনাজপুরে ৬.৬১ একর, দার্জিলিংয়ে ৪.৩১ একর, জলপাইগুড়িতে ২.১৭ একর এবং কোচবিহারে ১৩৫.৩৩ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারে এই জমির মাধ্যমে ৩৯.৩৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্ভব হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষা জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সেই লক্ষ্যেই বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণে প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। সরকারের মতে, জমি হস্তান্তরের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী করবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।