অনশনের ২১তম দিনে স্বাস্থ্য অবনতির কথা জানিয়ে হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি পুলিশের; বিরোধীদের অভিযোগ, জোর করে সরানো হয়েছে আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 018.07.2026 at 08:25 am
বঙ্গবার্তা নিউজ,নয়াদিল্লি:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
রাজধানীর জন্তর মন্তরে চলা অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনশনে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দিল্লি পুলিশ জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় সাদা চাদরের আড়াল ব্যবহার করা হয়, যার ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। তাই তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য
নতুন দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) এক বিবৃতিতে জানান, আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কিছু বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
একই সঙ্গে জন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান খালি করার আবেদনও জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
কেন চলছিল এই আন্দোলন?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে আন্দোলন চলছে। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সোনম ওয়াংচুক টানা ২১ দিন ধরে অনশন করছিলেন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। চিকিৎসকরা নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর সামনে আসছিল।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ
আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পুলিশ কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তাঁদের দাবি, আন্দোলন দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের অন্যতম নেতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে এবং আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা করছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে তিনি নিজেও অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসছেন এবং পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ অভিযানের পরিকল্পনা বহাল থাকবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী শিবির কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করে এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর চাপ সৃষ্টি বলে অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং আগামী কয়েক দিনে এই আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে।

