বারুইপুরের সূর্যপুরে নিহত নির্দোষ যুবকের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা, চাকরি ও সামাজিক সুরক্ষার ঘোষণা। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক উস্কানি ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 02.07.2026 at 16:00 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা ও বারুইপুর , সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই ঘটনাকে সাধারণ গণপিটুনি হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার নেপথ্যে সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, একজন নির্দোষ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তা আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি সমাজের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তদন্তে জোর, একাধিক গ্রেফতার
প্রশাসনের দাবি, ঘটনার দিন তোলা ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা পুরো ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্ররোচনার দিকটিও খতিয়ে দেখছেন।
পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার ঘোষণা
নিহতের পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
- ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা
- নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলের জন্য সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি
- ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সরকারি উদ্যোগে সংস্কার
- বৃদ্ধ বাবার জন্য বার্ধক্যভাতা
- মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু সরকারের দায়িত্ব পরিবারকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা দেওয়া।
বারুইপুর ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ৪ জুলাই এক নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর পরদিন তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং তদন্ত চলাকালীন মূল অভিযুক্ত পুলিশের অভিযানে নিহত হয়।
এরপর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতেই ভুল সন্দেহের ভিত্তিতে অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল জনতার আক্রমণের শিকার হন এবং তাঁর মৃত্যু হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ওই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
এদিন নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় আশ্বাস দেন, তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

