মহালয়ার দিন ইডেনে মেগা উদযাপন, পুজো ও বিসর্জনে নিষিদ্ধ ডিজে; ২৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জনের নির্দেশ
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.09.2026 at 19:21 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো। আর প্রথম বছরেই দুর্গাপুজোকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে পুজোর অনুদান থেকে শুরু করে কার্নিভাল, ডিজে, মদ বিক্রি, বিসর্জন এবং মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নিয়মের কথা জানানো হয়েছে।
এবার পুজো শেষে আর কোনও কার্নিভাল হবে না। তার পরিবর্তে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে চার ঘণ্টার মেগা উদযাপনের আয়োজন করবে রাজ্য সরকার। সেখানে হাজার ড্রোনের আকাশপথের প্রদর্শনী এবং আতশবাজির মাধ্যমে দুর্গাপুজোর সূচনার বার্তা দেওয়া হবে।

পুজো কমিটিগুলির অনুদান বেড়ে ১ লক্ষ টাকা
এবার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদানের অঙ্ক বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই অনুদান নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব পুজো কমিটির আর্থিকভাবে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের জন্যই এই অনুদান। বড় বাজেটের বা আর্থিকভাবে সক্ষম পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অনুদানের জন্য পুজো কমিটিগুলিকে থানা স্তরে আবেদন করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও দমকলের ফি মকুব
পুজো আয়োজকদের জন্য আরও বড় স্বস্তির ঘোষণা করেছে সরকার। পুজো মণ্ডপের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ মাসুল এবং দমকলের লাইসেন্স ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে।
পুজোর অনুমতি পেতে যাতে উদ্যোক্তাদের বারবার বিভিন্ন দফতরে ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যে কলকাতা পুলিশের তরফে চালু করা হয়েছে এক জানলা ব্যবস্থা ‘সহজ পোর্টাল’।

পুজো ও বিসর্জনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ডিজে
পুজোর সময় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পুজো কিংবা বিসর্জন—কোনও ক্ষেত্রেই ডিজে বাজানো যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, পুজো ও বিসর্জন উভয় ক্ষেত্রেই ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মহাষ্টমীতে ‘ড্রাই ডে’
দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাষ্টমী। সেই দিনটিকে কেন্দ্র করে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহাষ্টমীর দিন রাজ্যে সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। এমনকি বারেও মদ বিক্রি করা যাবে না।
পুষ্পাঞ্জলির মতো ধর্মীয় আচারের পবিত্রতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।

১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পুজো করা যাবে না
কলকাতায় যানজট নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শহরের মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় রাস্তা অবরুদ্ধ করে পুজো করা যাবে না।
এই তালিকায় রয়েছে—
- রেড রোড
- জওহরলাল নেহেরু রোড
- স্ট্র্যান্ড রোড
- খিদিরপুর রোড
- বর্ধমান রোড
- ডিএল খান রোড
- হসপিটাল রোড
- ক্যাথিড্রাল রোড
- নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট
- লেনিন সরণি
- বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট
- পার্ক সার্কাস কানেক্টর
- প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড
মাতৃপক্ষের আগে পুজোর উদ্বোধনে নিষেধাজ্ঞা
পুজোর ক্ষেত্রে সনাতন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। মাতৃপক্ষ শুরু হওয়ার আগে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেবীপক্ষ শুরুর আগে কোনওভাবেই পুজোর উদ্বোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
২৪ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে বিসর্জন
এবার বিসর্জনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হওয়ায় তার আগের দিন, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত দুর্গাপ্রতিমার নিরঞ্জন শেষ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় ক্রেন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে প্রশাসন। প্রতিমার ধর্মীয় পবিত্রতা এবং ঐতিহ্য যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
থাকছে ‘শারদ সম্মান’
এবারের দুর্গাপুজোয় বিভিন্ন বিভাগে সেরা পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করবে রাজ্য সরকার। শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ, শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব পুজো এবং শ্রেষ্ঠ ভিড় ব্যবস্থাপনা—এই বিভাগগুলিতে দেওয়া হবে ‘শারদ সম্মান’।
জরুরি পরিষেবার কর্মীদের জন্য সবেতন ছুটি
পুজোর সময় পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য, পরিবহণ এবং সিভিক কর্মীরা দিনরাত পরিষেবা দিয়ে থাকেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখে উৎসব শেষে বিশেষ ছুটির ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজো শেষ হওয়ার পর জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা সবেতন দু’দিনের ছুটি পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম দুর্গাপুজোয় একদিকে যেমন পুজো কমিটিগুলির জন্য অনুদান ও ফি মকুবের মতো একাধিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তেমনই পুজোর পরিবেশ, শব্দদূষণ, যানজট, মদ বিক্রি এবং বিসর্জনকে ঘিরে একাধিক কড়া নিয়মও জারি করা হয়েছে।

