সিকিম টানেল দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে বড় পদক্ষেপ, ট্রলার দুর্ঘটনায়ও ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা সরকারি হেলিকপ্টার নিয়ে মমতাকে ‘সম্রাজ্ঞী’ কটাক্ষ শুভেন্দুর!

সিকিমে টানেল ধসে মৃত ১০, তাঁদের মধ্যে ৫ জন জলপাইগুড়ির শ্রমিক। উদ্ধার তদারকিতে সরকারি হেলিকপ্টারে মন্ত্রী পাঠানোর দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও চাকরির আশ্বাস।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 22.07.2026 at 14:05 pm

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

সিকিমের NHPC-র তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের উদ্ধারে প্রশাসনিক তৎপরতার কথা বলতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হেলিকপ্টারের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে এক ‘সম্রাজ্ঞী’ একাই হেলিকপ্টার ব্যবহার করতেন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতেন না। এখন সেই হেলিকপ্টারই উদ্ধারকাজে মন্ত্রী ও আধিকারিকদের দ্রুত পাঠাতে কাজে লাগানো হয়েছে।

সিকিম টানেল ধসে মৃত্যু ১০ জনের

সিকিমের NHPC-র তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন। উদ্ধারকারীদের দীর্ঘ অভিযানের পর এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা

দুর্ঘটনার খবর সামনে আসার পরপরই রাজ্য সরকারের তরফে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের একটি প্রতিনিধি দল এবং মন্ত্রী বিশাল লামাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

‘সম্রাজ্ঞী’ কটাক্ষে রাজনৈতিক বিতর্ক

বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,

“রাজ্যের কাছে একটিই সরকারি হেলিকপ্টার রয়েছে। একসময় এক ‘সম্রাজ্ঞী’ সেটি একাই ব্যবহার করতেন, অন্য কাউকে ছুঁতেও দেওয়া হত না। আমরা সেই হেলিকপ্টারেই মন্ত্রী ও আধিকারিকদের দ্রুত সিকিমে পাঠিয়েছি, যাতে উদ্ধারকাজে কোনও বিলম্ব না হয়।”

এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলেও জানান তিনি।

নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রলার দুর্ঘটনায়ও বড় ঘোষণা

এদিন বিধানসভায় উপকূলীয় এলাকার আরেকটি দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলারটির সন্ধান ছয় দিন পর মিললেও, ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন মৎস্যজীবী।

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন—

  • নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য।
  • পরিবারের একজন সদস্যকে স্থানীয় থানায় সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরি
  • আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, “প্রাণের মূল্য কখনও টাকা দিয়ে পূরণ হয় না। তবে মানবিক দায়িত্ব থেকেই সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে।”

রাজনৈতিক কটাক্ষের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ঘোষণা—এই দুই বিষয়ই এদিনের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।