৬৩০ বছরে পদার্পণ মাহেশের ঐতিহাসিক রথযাত্রা, শুভ সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার

বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল; ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও উৎসবের আবহে মুখর মাহেশ, উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 02.07.2026 at 19:00 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ,শ্রীরামপুর, হুগলি , আভিজিত বসুঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভক্তির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র মাহেশের ঐতিহাসিক রথযাত্রা এবারে ৬৩০ বছরে পদার্পণ করল। ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পালিত এই রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা হিসেবে সুপরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব লক্ষ লক্ষ ভক্তের কাছে বিশ্বাস, ভক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে রয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পবিত্র নিম কাঠ দিয়ে শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার বিগ্রহ নির্মাণ করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই বিগ্রহগুলি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধারাবাহিকভাবে পূজিত কাঠের বিগ্রহ, যা আজও একই ঐতিহ্যে পূজিত হয়ে আসছে।

বৃহস্পতিবার ৬৩০তম মাহেশ রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, উত্তরপাড়া বিধানসভার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, ভারতীয় মজদুর সেলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী-সহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

এদিন ভোর থেকেই মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রথের রশিতে টান দিতে এবং শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শনের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলা-সহ দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী উপস্থিত হন। গোটা এলাকা উৎসবের আবহে সেজে ওঠে।

উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। রথযাত্রাকে ঘিরে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে দিনভর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে মাহেশ।

৬৩০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবেও আজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।