প্রধান বা নির্বাচিত বোর্ডের কাজ ব্যাহত হলেও যাতে উন্নয়ন ও জনপরিষেবা থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর শীঘ্রই বিধানসভায় উঠছে সংশোধনী বিল।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 22.07.2026 at 17:25 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, মৃণাল কান্তি সরকার :
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা এড়াতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। নির্বাচিত প্রধানের পাশাপাশি পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে আরও বেশি প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা তুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই সংশোধনী বিল বিধানসভায় পেশ করা হবে। বিলটি পাশ হলে পঞ্চায়েত প্রশাসনে সচিবদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বৃদ্ধির আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।
কেন আনা হচ্ছে এই পরিবর্তন?
রাজ্য সরকারের দাবি, অনেক সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কারণে পঞ্চায়েতের প্রধান কিংবা নির্বাচিত বোর্ডের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর জেরে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, সরকারি পরিষেবা এবং আর্থিক কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই এই আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন সংশোধনের ফলে, প্রধান বা বোর্ড কোনও কারণে কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারলেও পঞ্চায়েত সচিবরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে পারবেন। ফলে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ হবে না এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
সচিবদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, আর্থিক অনুমোদন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে সচিবদের ভূমিকা আরও বাড়বে। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে জটিলতা কমবে এবং পরিষেবা আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
শীঘ্রই বিধানসভায় বিল
মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই সংশোধনী বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে। আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই বিলটি পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে কোনও পরিস্থিতিতেই ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করা।

