এক আইপিএস-সহ চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, সাসপেনশন-এফআইআর ও বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

তৃণমূল সরকারের আমলের একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা। কালিয়াগঞ্জ, বড়তলা, কৃষ্ণনগর ও কাকদ্বীপের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 25.07.2026 at 19:25 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া একাধিক বিতর্কিত ঘটনার জেরে এক আইপিএস অফিসার-সহ চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতর সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন, এফআইআর এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায় সাধারণ মানুষ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই সরকার প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে এএসআই-এর বিরুদ্ধে সাসপেনশন ও এফআইআর

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা তুলে ধরেন। অভিযোগ, ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি অভিযানে রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কালিয়াগঞ্জ থানার এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বড়তলা থানার দুই আধিকারিকও সাসপেন্ড

অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে হয়রানির অভিযোগে বড়তলা থানার তৎকালীন তদন্তকারী অফিসার এসআই সাধন দাস-কে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

একই সঙ্গে ওই ঘটনার জেরে বড়তলা থানার তৎকালীন আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরীকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জগদ্ধাত্রী পুজোর ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন উপলক্ষে ভক্তদের উপর লাঠিচার্জ এবং সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, শুধু সাসপেনশনই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে।

কাকদ্বীপের কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সূর্যনগরে কালীপুজোর সময় কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনার পর পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ঘটনায় তৎকালীন সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, আইপিএস কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনের সময় পুলিশি পদক্ষেপ এবং কালীমূর্তি থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।

‘প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ’

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিতর্কিত ঘটনাগুলিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর শাসকদলের সদস্যরা “কালী মাতা কি জয়” স্লোগান দেন, যা বিধানসভায় রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত করে তোলে।