মিড-ডে মিলে ফিরছে ডিম, ১ অগস্ট থেকে ইসকনের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ শুরু — বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদাভাবে ডিম সরবরাহের ব্যবস্থা, পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করার আশ্বাস; ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল বিতরণ শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলকভাবে।

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 29.07.2026 at 5:25 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে ফের ডিম অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদাভাবে ডিম সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কোনও পড়ুয়া পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত না হয়।

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ১ অগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল বিতরণের পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই উদ্যোগ চালু করা হবে। প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর ভবিষ্যতে তা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিড-ডে মিলে ডিম বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল পরিচালনার সিদ্ধান্তের ফলে পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাদ্যের তালিকা থেকে ডিম বাদ যেতে পারে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছিল।

এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা, ডিম সরবরাহে কোনও ঘাটতি হবে না। তিনি জানান, রান্না ও খাবার বিতরণের দায়িত্ব একদিকে থাকলেও, ডিম সরবরাহের দায়িত্ব থাকবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির হাতে, ফলে একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

রাজ্য সরকারের মতে, এই নতুন মডেলের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্পের গুণগত মান, স্বচ্ছতা এবং পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

তবে বিরোধীরা সরকারের এই ঘোষণাকে কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে, নাকি নতুন করে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে, তা এখন দেখার বিষয়। আগামী **১ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলা পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের দিকেই এখন নজর শিক্ষা মহল ও রাজ্য রাজনীতির।